
মহিলাদের হজের ইহরাম: পোশাক, নিয়ত ও গুরুত্বপূর্ণ বিধান
হজ ইসলামের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত। হজ পালনের জন্য পুরুষ ও নারীর কিছু বিধান আলাদা। বিশেষ করে মহিলাদের ইহরাম নিয়ে অনেকের মধ্যে ভুল ধারণা রয়েছে। পুরুষদের মতো নারীদের জন্য নির্দিষ্ট দুই টুকরা ইহরামের কাপড় বাধ্যতামূলক নয়; বরং নারী সাধারণ শালীন, পর্দাশীল ও সেলাই করা পোশাক পরেই ইহরাম গ্রহণ করতে পারেন।
মহিলাদের ইহরামের পোশাক এমন হওয়া উচিত, যাতে পুরো শরীর যথাযথভাবে আবৃত থাকে এবং পোশাকটি ঢিলেঢালা ও পর্দাসম্মত হয়। সাধারণভাবে সেলাই করা জামা, পায়জামা, বোরকা বা অন্যান্য শালীন পোশাক পরা যায়। ইহরামের জন্য নির্দিষ্ট কোনো রং বাধ্যতামূলক নয়। তবে পোশাক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি হওয়া গুরুত্বপূর্ণ।কিনুন
ইহরামে প্রবেশের আগে গোসল করা এবং প্রয়োজনীয় পরিচ্ছন্নতা সম্পন্ন করা সুন্নত। এরপর নির্ধারিত মীকাত অতিক্রমের আগে হজের নিয়ত করতে হয় এবং তালবিয়া পাঠ করতে হয়। নারীরা সাধারণত নিচু স্বরে তালবিয়া পাঠ করেন।
ইহরাম অবস্থায় মহিলাদের জন্য সুগন্ধি ব্যবহার, চুল বা নখ কাটা, শিকার করা এবং দাম্পত্য সম্পর্কসহ ইহরামের অন্যান্য নিষিদ্ধ কাজ থেকে বিরত থাকতে হয়। একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো—ইহরাম অবস্থায় নারী মুখের ওপর এমনভাবে নিকাব পরবেন না যা মুখের সঙ্গে লেগে থাকে। তবে পরপুরুষ সামনে থাকলে পর্দার প্রয়োজন অনুযায়ী কাপড় দিয়ে মুখ আড়াল করার বিষয়ে ফিকহের বিস্তারিত বিধান রয়েছে।
হজের সময় ভিড়, দীর্ঘ হাঁটা ও গরমের কারণে আরামদায়ক পোশাক ও প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র প্রস্তুত রাখা জরুরি। একই সঙ্গে নিজের হজের ধরন—তামাত্তু, কিরান বা ইফরাদ—অনুযায়ী আমলের ক্রম জেনে নেওয়া উচিত।কিনুন
সবশেষে মনে রাখা দরকার, ইহরাম শুধু একটি পোশাকের নাম নয়; এটি একটি পবিত্র ইবাদতী অবস্থার নাম। তাই পোশাকের পাশাপাশি নিয়ত, সংযম, আল্লাহর জিকির এবং ইহরামের বিধান মেনে চলাই হজের সৌন্দর্য।