নিয়োগপত্র সর্ম্পকিত ধারণা বিতরণ বিষয়ক আলোচনা এবং বিভিন্ন ছুটি সম্পর্কে ধারণা ।

নিয়োগপত্র সর্ম্পকিত ধারণা,বিতরণ বিষয়ক আলোচনা
নিয়োগপত্র সর্ম্পকিত ধারণা,বিতরণ বিষয়ক আলোচনা

নিয়োগপত্র সর্ম্পকিত ধারণা

কোন শ্রমিক নিজ ইচ্ছায় চাকুরী ছাড়তে চাইলে স্থায়ী শ্রমিকের ক্ষেত্রে ন্যূনতম ৬০ দিন পূর্বে লিখিতভাবে কর্তৃপক্ষকে নোটিশ দিতে হবে ।বিনানোটিশে ৬০ দিনের মজুরির সমপরিমান অর্থ মালিককে ফেরত  প্রদান করতে হবে । অনুরূপভাবে মালিক পক্ষ ইচ্ছা করলে ১২০ দিনের নোটিশে বা ১২০ দিনের সমমজুরি প্রদান সাপেক্ষে বিনানোটিশে স্থায়ী শ্রমিকের চাকুরির অবসান ঘটাতে পারবেন।

আলোচ্য বিষয়াবলীঃ

  • নিয়োগপত্র কি ?
  • কারা এই নিয়োগের যোগ্য ?
  • কারখানার পরিচিতিকরণ ?
  • কর্মঘন্টা কি ?
  • ওভারটাইম কিভাবে করানো হয় এবং এর সুবিধার হিসাব?
  • টাইম কার্ড কি ও এর ব্যবহার ?
  • উপস্থিতি বোনাস কারা পাবে ?
  • উৎসব ভাতা কারা পাবে ?
  • বেতন কি ও তার হিসাব ?
  • বেতন কিভাবে প্রদেয় হয় ?
  • ছুটির ধরণ ও প্রকার ?
  • কি কি কাজ অসদাচরণ ভুক্ত ?
  • শ্রমিক কর্তৃক চাকুরীর অব্যাহতির নিয়ম ?
  • মালিক কর্তৃক শ্রমিকের চাকুরি অব্যাহতির নিয়ম ?

আলোচনার উদ্দেশ্যঃ

শ্রমিকের ন্যূনতম মজুরি, মজুরির শ্রেণীবিভাগ নিয়মাবলী সম্পর্কে জানা।

শ্রমিকের কাজের সময় বেতনের হিসাব, ওভারটাইমের হিসাব সম্পর্কে জানা ।

দেশে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ছুটি ভোগ করার পদ্ধতি সম্পর্কে জানা ।

কারখানার একে অপরের সাথে পরিচিতি, কারখানা এবং কারখানার পরিবেশ সম্পর্কে ধারণা নেওয়া ।

কোম্পানির নিয়ম-কানুন সম্পর্কে ধারণা গ্রহণ করা।

পদ্ধতি ঃ প্রশ্নোত্তর, উপস্থাপনা, মুক্ত আলোচনা/ বিস্তারিত আলোচনা ।

বিস্তারিত আলোচনা

নিয়োগপত্রঃ নিয়োগপত্র হল শ্রমিকের অধিকার । প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানে শ্রমিক / কর্মচারী নিয়োগের সময় সংশ্লিষ্ট শ্রমিক/ কর্মচারীকে একটি নিয়োগপত্র দিতে হবে এবং নিয়োগপত্রে নিম্নোক্ত বিষয় গুলো থাকতে হবে ।

(ক) শ্রমিকের নাম, পিতার নাম ও ঠিকানা ।

(খ) শ্রমিকের নিয়োগের তারিখ ও চাকুরীর  ধরন ।

(গ) শ্রমিকের চাকুরীর শর্তাবলী ইত্যাদি।

নিয়োগের যোগ্যঃ যাদের বয়স ১৮ অথবা এর উপরে এবং শারীরিকভাবে সুস্থ্য তাদেরকে আমরা নিয়োগ করে থাকি । এ ক্ষেত্রে মহিলা এবং পুরুষ, ধর্ম, বর্ণ, গোত্র বা বংশ নির্বিশেষে সবাইকে তার নিজস্ব যোগ্যতা অনুযায়ী নিয়োগ করা হয় ।

কাজের ঘন্টা ঃ

প্রতিদিন সকাল ৮ টা থেকে বিকাল ৫ টা পর্যন্ত এবং মধ্যাহ্ন বিরতি দুপুর ১.০০ টা থেকে ২.০০ টা পর্যন্ত ১ ঘন্টা । অর্থাৎ প্রতিদিন ৮ ঘন্টা হিসেবে প্রতি সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টা ।

ওভারটাইমঃ প্রতিদিন ৮ ঘন্টার বেশী কিংবা সপ্তাহে ৪৮ ঘন্টার বেশী কাজ হলে তা ওভারটাইম (অতিরিক্ত কাজ) হিসেবে গণ্য করা হবে। প্রতিমাসের বেতনের সাথে ওভারটাইমের ভাতা প্রদান করা হয়।  প্রতি ঘন্টার ওভারটাইম হার ঃ    (মূল মজুরি/২০৮) ী ২ ী ওভারটাইম ঘন্টা।

টাইম কার্ডঃ

আপনাকে একটি টাইম কার্ড ইস্যু করা হবে যেখানে প্রতিদিন কারখানায় প্রবেশ এবং বাহির হওয়ার সময় উল্লেখ থাকবে। ওভারটাইমের সময় ও টাইম কার্ডে দেখানো হবে।টাইম কার্ডে শ্রমিকের স্বাক্ষরের ঘরে আপনাকে স্বাক্ষর করতে হবে।

উপস্থিতি ও উৎসব বোনাসঃ সকল কর্ম দিবসে উপস্থিত থাকলে কোম্পানীর নিয়মানুযায়ী উপস্থিতি বোনাস এবং বাৎসরিক দুইটি উৎসব ভাতার ব্যবস্থা আছে চাকুরীর ক্ষেত্র অনুযায়ী প্রদান করা হয়।

বেতন/ মজুরি ঃ

আপনার বেতনের হিসাব হবে নিম্নরুপঃ

মূল মজুরী……..বাড়ি ভাড়া টাকা………চিকিৎসা ভাতা টাকা ……..সর্বমোট টাকা …………।

বেতনের দিন ঃ প্রতি মাসের বেতন শ্রম আইন অনুযায়ী পরবর্তী মাসের নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে পরিশোধ করা হয়।

সাপ্তাহিক ছুটি ঃ

কারখানায়  কর্মরত সকল শ্রমিক শুক্রবার অথবা কর্তৃপক্ষের বা সরকারী নির্দেশ মোতাবেক সপ্তাহের যে কোন একদিন সাপ্তাহিক ছুটি ভোগ করতে পারবেন।

বাৎসরিক / অর্জিত ছুটিঃ পুরো ০১ বৎসর অবিচ্ছিন্নভাবে চাকুরী সম্পন্ন করলে প্রত্যেক কর্মচারী পরবর্তী বছরে পূর্বের বছরের প্রতি ১৮ কর্ম দিবসের জন্যে ০১ দিন পূর্ণ মজুরীসহ অর্জিত ছুটি ভোগ করতে পারবে। যদি কেহ এই ছুটি ভোগ না করে তাহলে এই ছুটি পরবর্তী বৎসরের ছুটির সাথে যোগ হবে।তবে শর্ত থাকে যে,শ্রমিকের অর্জিত ছুটি সর্বোচ্চ ৪০ দিন পর্যন্ত জমা হতে পারবে।

উৎসব ছুটি ঃ প্রত্যেক শ্রমিক মজুরি সহ প্রতি বছরে ১১ দিন উৎসব ছুটি পাবে । যদি কোন শ্রমিক উক্ত নির্ধারিত ছুটির দিনে কাজ করে তাহলে সে অতিরিক্ত দুই দিনের মজুরী এবং একদিনের পরবর্তিত ছুটি ভোগ করতে পারবে।

নৈমিত্তিক ছুটি ঃ

প্রত্যেক শ্রমিক বছরে পূর্ণমজুরি সহ ১০ দিনের নৈমিত্তিক ছুটি পাবে। যদি কেহ চলতি বৎসরে উক্ত ছুটি ভোগ না করে তাহলে স্বাভাবিকভাবে উক্ত ছুটি শেষ হয়ে যাবে এবং পরবর্তীতে ভোগ করা যাবে না।

অসুস্থতাজনিত ছুটিঃ প্রত্যেক শ্রমিক বছরে পূর্ণ মজুরিতে ১৪ দিনের অসুস্থতাজনিত ছুটি ভোগ করতে পারবে ।  এ ছুটি জমা রেখে পরবর্তী বছরে ভোগ করা যাবে না ।

মাতৃত্বকালীন ছুটিঃ মাতৃত্বকালীন ছুটি ১৬ সপ্তাহ (প্রসবের আগে ৮ সপ্তাহ এবং পরে ৮ সপ্তাহ) । মজুরিসহ এই ছুটি পেতে হলে চাকুরির বয়স নিয়মিত ন্যূনতম ৬ মাস হতে হবে এবং প্রয়োজনীয় মেডিকেল ডকুমেন্টস, আবেদনপত্র কর্তৃপক্ষের নিকট জমা দিতে হবে । তবে যাদের ২টি সন্তান জীবিত আছে তারা এ আর্থিক সুবিধা পাবে না । শুধু ছুটি পাওয়ার অধিকারী হবেন ।প্রসবকালীন ১১২ দিনের ভাতা ২টি কিস্তিতে দেওয়া হয় ।

অসদাচরণঃ

নিম্নবর্নিত কাজ করা অসদাচরন বলিয়া গন্য হবে এবং যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ব্যবস্থা গ্রহণ করার অধিকার কর্তৃপক্ষ সংরক্ষণ করেন।

  • উপরস্থের কোন আইনসংগত বা যুক্তিসংগত আদেশ মানার ক্ষেত্রে এককভাবে বা অন্যের সঙ্গে সংঘবদ্ধ হইয়া ইচ্ছাকৃতভাবে অবাধ্যতা।
  • মালিকের ব্যবসা বা সম্পত্তি সম্পর্কে চুরি,প্রতারণা বা অসাধুতা।
  • মালিকের অধীন তার বা অন্য কোন শ্রমিকের চাকুরী সংক্রান্ত ব্যাপারে ঘুষ গ্রহন বা প্রদান।
  • অভ্যাসগত বিলম্বে উপস্থিতি।
  • প্রতিষ্ঠানে প্রযোজ্য কোন আইন,বিধি বা প্রবিধানের অভ্যাসগত লংঘন।
  • প্রতিষ্ঠানে উশৃঙ্খল বা দাংগা-হাংগামামূলক আচরণ,অখবা শৃঙ্খলা হানিকর কোন কর্ম।
  • কাজে কর্মে অভ্যাসগত গাফিলতি।
  • প্রধান পরিদর্শক কর্তৃক  অনুমোদিত চাকুরী সংক্রান্ত,শৃঙ্খলা বা আচরণসহ,যে কোন বিধির অভ্যাসগত লংঘন।
  • মালিকের অফিসিয়াল রেকর্ডের রদবদল, জালকরণ,অন্যায় পরিবর্তণ,উহার ক্ষতিকরণ বা উহা হারিয়ে ফেলা।

By Mashiur

He is Top Class Digital Marketing Expert in bd based on Google Yahoo Alexa Moz analytics reports. He is open source ERP Implementation Expert for RMG Industry. He is certified IT Professional from Aptech, NCC, New Horizons & Post Graduated from London Metropolitan University (External) in ICT . You can Hire him. Email- [email protected], Cell# +880 1792525354

Leave a Reply