সমিতি গঠন সাধীনতা ও যৌথ দর কষাকষির নীতিমালা এর বর্ণনা

সমিতি গঠনের সাধীনতা ও যৌথ দর কষাকষির নীতিমালা
সমিতি গঠনের সাধীনতা ও যৌথ দর কষাকষির নীতিমালা

লক্ষ্য ও উদ্দ্যেশ্য (Aim & objective)

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর  ধারা-২০৫ অনুযায়ী অনূন্য ৫০ জন শ্রমিক সাধারনত: কর্মরত আছেন এরুপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় তাহার প্রতিষ্ঠানে একটি অংগ্রহনকারী কমিটি গঠন করিবেন। সমিতি গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দর কষাকষি নীতিমালা বাংলাদেশ শ্রম আইন স্বীকৃত এবং শ্রমিক ও মালিক পক্ষের মধ্যে সমঝোতারএকটি প্রক্রিয়া। শ্রমিকদের যেকোন অধিকার সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন। শ্রমিক ও মালিকের অংশগ্রহনের মাধ্যমে উভয়ের মধ্যে উত্তম সম্পর্ক বজায় রাখার লক্ষ্যেই এই নীতিমালা প্রনীত। এ নীতিমালার মাধ্যমে কর্মক্ষেত্রে মজুরী কাঠামো, কর্মঘন্টা, প্রশিক্ষণ, স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা, অভিযোগ পদ্ধতি এবং অধিকার সমূহ নির্ধারিত হয়।

The organization or person responsible for implementing the policy

উল্লেখিত নীতিমালাটি প্রনোয়ন ও তার সুষ্ঠু প্রয়োগের জন্য একটি কার্যকরী পরিষদ গঠন করতে হবে । পরিষদটির গঠন প্রণালী নিম্নে উল্লেখ করা হলো:

অংশ গ্রহণ কমিটি

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর  ধারা-২০৫ অনুযায়ী অনূন্য ৫০ জন শ্রমিক সাধারনত: কর্মরত আছেন এরুপ প্রত্যেক প্রতিষ্ঠানের মালিক বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় তাহার প্রতিষ্ঠানে একটি অংগ্রহনকারী কমিটি গঠন করিবেন। এ কমিটি মালিক ও শ্রমিকগনের প্রতিনিধি সমন্বয়ে গঠিত হবে। কমিটিতে শ্রমিকগনের প্রতিনিধির সংখ্যা মালিকের প্রতিনিধির সংখ্যার কম হইবেনা। শ্রমিকগনের প্রতিনিধি প্রতিষ্ঠানের ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের মনোনয়নের ভিত্তিতেদ নিযুক্ত হইবেন। সংশিÍস্ট প্রতিষ্ঠানের যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি ব্যতীত অন্য প্রত্যেক ট্রেড ইউনিয়ন সম সংখ্যক প্রতিনিধি মনোনীত করিবে এবং যৌথ দরকষাকষি প্রতিনিধি এমন সংখ্যক প্রতিনিধি মনোনীত করিবে যাহা অন্য ট্রেড ইউনিয়ন সমূহের মোট মনোনীত প্রতিনিধিগনের অপেক্ষা একজন বেশী হয়। উল্লেখ্য যে, যেসকল প্রতিষ্ঠানে ট্রেড ইউনিয়ন নাই, সে সকল প্রতিষ্ঠানের অংশগ্রহনকারী কমিটিতে শ্রমিক প্রতিনিধিগন উহাতে কর্মরত শ্রমিকের মধ্য হইতে, বিধি দ্বারা নির্ধারিত পন্থায় মনোনীত হতে হবে।

অংশ গ্রহণ কমিটির কাজ

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর  ধারা-২০৬ অনুযায়ী অংমগ্রহনকারী কমিটির কাজ হইবে প্রধানত: প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রমিক এবং মালিক সকলেরই অঙগীভূত হওয়ার ভাব প্রোথিত ও প্রসার করা এবং প্রতিষ্ঠানের প্রতি শ্রমিকগনের অঙ্গীকার ও দায়িত্ববোধ জাগ্রত করা ।

  • শ্রমিক ও মালিকের মধ্যে পারস্পারিক আস্থা ও বিশ্বাস, সমজোতা এবং সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়াস বা প্রচেস্টা চালানো
  • শ্রম আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা
  • শৃঙ্খলাবোধে উৎসাহিত করা, নিরাপত্তা, পেশাগত স্বাস্থ্যরক্ষা এবঙ কাজের অবস্থার উন্নাত বিধান।
  • বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষন, শ্রমিক শিক্সা এবং পরিবার কর‌্যাণ প্রশিক্সনে উৎসাহিত করা।
  • শ্রমিকদের ও পরিবার বর্গের জন্য কল্যাণমূলক ব্যবস্থার উন্নতির জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ।
  • উৎপাদন লক্স্যমাত্রা অর্জন, উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, উৎপাদন খরচ হ্রাস

অংশ গ্রহণ কমিটির সভা

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ এর  ধারা-২০৭ অনুযায়ী  দারা ২০৬ এর অধীন কার্যাবলী সম্পাদনের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থার সুপারিশ করা ও তৎসম্পর্কে আলোচনা ও মত বিনিময়ের জন্য অংশগ্রহনকারী কমিটি প্রতি তিন মাস অন্তত একবার সভায় মিলিত হবে।

ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার কমিটি

অংশ গ্রহণ কমিটির অবর্তমানে সরকার/আইএলও/বিজিএমইএ এর অনুমোদন সাপেক্ষে গ্র“পের কোন প্রতিষ্ঠান ওয়ার্কার্স ওয়েলফেয়ার কমিটি গঠন করে উপরোক্ত কার্য পরিচালনা করতে পারে।অত্র কারকানায় উল্লেখিত বিষয়গুলো নিশ্চিত করার লক্ষ্যে শ্রমিক কল্যাণ অংশগ্রহনকারী কমিটি বিদ্যমান।

সংগঠক

শ্রমিকদের যেকোন অধিকার এবং দায়িত্ত সম্পর্কে কর্তৃপক্ষ অত্যন্ত সচেতন। আর সে লক্ষ্যেই এই নীতিমালাকে কার্যকরী রুপদানের জন্য একটি সংগঠক কমিটি অত্র কারখানায় সক্রিয়, যেখানে শ্রমিক ও মালিকের উপস্থিতি বিদ্যমান।

দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তি

এই নীতিমালার পূর্নাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক এবং মালিক উভয়েই দায়িত্ব নিয়ে কার্যক্রমকে সফল করার চেষ্টা করেন।

The routines/ procedure for implementation of the policy

শিল্প সম্পর্ক অধ্যাদেশ, ১৯৬৯ অনুসারে,  নিম্নলিখিত ভাবে সমিতি গঠনের স্বাধীনতা ও দরকষাকষি নীতি মেনে চলে।

নীতিমালা বিবরনী

ট্রেড ইউনিয়ন গঠরেনর যে কোন উদ্যোগ অত্র প্রতিষ্ঠানের কর্তৃপক্ষ সমর্থন দান করে। কোন প্রকার পূর্ব অনুমতি ছাড়াই সকল শ্রেণীর শ্রমিক নিজেদের পছন্দমত সমিতি গঠন এবং সমিতিতে যোগদান করতে পারবে। সমিতিসমূহ নিজস্ব সংবিধান এবং বিধিমালা প্রণয়ন,স্বাধীনভাবে প্রতিনিধি নির্বাচন, কর্মতৎপরতা পরিচালনা ও কর্মসূচী প্রনয়ণ করতে পারবে। তবে অরেজিষ্ট্রিকৃত অথবা রেজিষ্ট্রেশন বাতিল হয়েছে এমন কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যরা কাজ চালাতে পারবে না। কোন শ্রমিক একই সময়ে একাধিক ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য পদ গ্রহণ বা সদস্যপদ অব্যহত রাখতে পারবে না।

কর্তৃপক্ষের বাধ্যবাধকতা

  •  কর্তৃপক্ষ কোন ব্যক্তির উপর ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের বা ট্রেড ইউনিয়নের সদস্যপদ বহাল রাখার  অধিকার হরন করে কোন শর্ত আরোপ করার তৎপরতা চালায় না।
  •  কোন ব্যক্তি কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য আছেন কিনা তার ভিত্তিতে চাকুরীতে নিযুক্তি, পদোন্নতি, চাকুরীর শর্ত বা কাজের শর্ত নির্ধারনে বৈষম্য করে না।
  •  কোন ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হয়েছেন বা হবার ইচ্ছা পোষন করেছেন অথবা সদস্য বা কর্মকর্তা হবার জন্য কোন ব্যক্তিকে সম্মত করার চেষ্টা করেছেন বা কোন ট্রেড ইউনিয়ন গঠনের, উন্নয়ণের বা কর্মতৎপরতা চালানোর জন্য কোন শ্রমিককে চাকুরী থেকে বরখাস্ত, পদচ্যূত বা অপসারনের হুমকি কিংবা চকুরী ক্ষতিগ্রস্ত করার হুমকি প্রদান করে না।
  • কোন ব্যক্তিকে ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা না হবার জন্য অথবা সদস্য বা কর্মকর্তা হয়ে থাকলে তা বর্জনের জন্য প্রলোব্ধ করার প্রক্রিয়া চালায় না।
  •  ভীতি প্রদর্শণ, দমন নীতি, চাপ প্রয়োগ অথবা আহত করে কোন শ্রমিককে কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাধ্য করা হয় না।
  • নির্বাচন চলাকালীন সময়ে কর্তৃপক্ষ কোনরূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করার ইচ্ছা পোষণ করে না।
  •  বৈধ ধর্মঘট চলাকালীণ সময়ে কর্তৃপক্ষ নতুন কোন শ্রমিক নিয়োগ করতে পারবে না।

শ্রমিকদের বাধ্যবাধকতা

  • কাজ চলাকালীণ সময়ে কোন শ্রমিককে ট্রেড ইউনিয়নে যোগদানের জন্য বা যোগদান থেকে বিরত থাকার জন্য সম্মত করার চেষ্টা করা যাবে না।
  • ট্রেড ইউনিয়নের সদস্য বা কর্মকর্তা হবার জন্য বা বিরত থাকার জন্য অথবা সদস্য বা কর্মকর্তা পদে বহাল থাকা বা না থাকার জন্য কোন ব্যক্তিকে ভীতি প্রদর্শন করা যাবে না।
  •  ভীতি প্রদর্শন, দমন নীতি, চাপ প্রয়োগ, আটক রেখে অথবা আহত করে কোন শ্রমিককে ট্রেড ইউনিয়নের চাঁদা দিতে বা বিরত থাকতে ও মালিককে কোন চুক্তিতে স্বাক্ষর করতে বাথ্য করা যাবে  না।
  •  কোন শ্রমিক ধর্মঘট চলাকালীন সময়ে কোন ট্রেড ইউনিয়ন কোনরূপ হস্তক্ষেপ বা প্রভাব বিস্তার করতে পারবে না।

নীতিমালা সম্পর্কে অবহিত করন

নীতিমালা বাস্তবায়নে অবহিতকরন একটি বড় বিষয়।আরএ কাজের জন্য অত্র কারখানায় যে সকল পদক্ষেপ গৃহিত হয় তা হলো-মাসিক মিটিং, কারখানার বিভিন্ন নোটিশ বোর্ড,সাউন্ড সিস্টেম ইত্যাদি।

ফিডব্যাক/ নিয়ন্ত্রন

সমিতি গঠনের স্বাধীনতা ও যৌথ দর কষাকষি নীতিমালা বাংলাদেশ শ্রম আইন স্বীকৃত একটি প্রক্রিয়া বলেই কর্তৃপক্ষ এর প্রতি শ্রদ্ধাশীল। এর বাস্তবায়নের জন্য শ্রমিক ও মালিক কর্তৃপক্ষ উবয়কেই সমভাবে দায়িত্ব নিতে হবে যাতে উৎপাদনে গতিশীলতা, উন্নতি,অগ্রগতি বিদ্যমান থাকে। এর পরেও যদি পলিসির কার্যক্রম ভঙ্গের কোন ঘটনা ঘটে তাহলে মাননীয় ব্যবস্থাপনা পরিচালক/ নির্বাহী পরিচালক প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করে থাকেন।

ফিডব্যাক ও কন্ট্রোল

কারখানায় কর্মরত শ্রমিকদের জন্য কোম্পানীতে যে সকল নীতিমালা রয়েছে তার মধ্যে অন্যতম একটি নীতিমালা হচ্ছে ”যৌথ দরকষাকষি ও সমিতি গঠনের স্বাধীনতা”। এই নীতিমালা শ্রমিকদের অধিকার আদায়ের জন্য করা হয়েছে।

এই পলিসি কারখানায় বাস্তবায়ন করার লক্ষ্যে কর্তৃপক্ষ সর্বদা  সচেতন এবং সার্বিক ব্যবস্থা গ্রহন করে।

উপসংহার

সকল ইউনিটের কর্মরত সকলের ন্যায্য অধিকার ও মর্যাদা সমুন্নত রাখতে কর্তৃপক্ষ বদ্ধ পরিকর। মালিক ও শ্রমিকের মধ্যে পারস্পারিক সমঝোতা ও সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রয়াস, শ্রম আইনের প্রয়োগ নিশ্চিত করা এবং শ্রম আইনের প্রতি উভয় পক্ষকে শ্রদ্ধাশীল রাখার মানসেই অত্র কারখানায় যৌথ দর কষাকষি নীতিমালা বিরাজমান।

Leave a Reply